
ক্ষমতায় গেলে লাল ফিতার দৌরাত্ম্য বন্ধ করে ঘুষ ও চাঁদাবাজিমুক্ত একটি ব্যবসাবান্ধব রাষ্ট্র গড়ার অঙ্গীকার করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, তাঁদের নিজস্ব কোনো এজেন্ডা নেই। জনগণ ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করলে এই সম্মানের মর্যাদা রাখা হবে। ঘুষ, চাঁদাবাজি, লাল ফিতার দৌরাত্ম্য বন্ধ করা হবে।
গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বনানীর একটি হোটেলে দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী ও শিল্প উদ্যোক্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় শফিকুর রহমান এ কথা বলেন।
জামায়াতের আমির বলেন, ঘুষের কারণে দেশি ব্যবসায়ীরা ইচ্ছা ও সম্পদ থাকা সত্ত্বেও বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হন না। দেশি বিনিয়োগকারীরা যদি নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন, তাহলে বিদেশি বিনিয়োগ আসবে কেন—এ প্রশ্ন রাষ্ট্রকে আগে সমাধান করতে হবে।

ক্ষমতায় গিয়ে যেন কারও সম্পদ অস্বাভাবিকভাবে না বাড়ে, আত্মীয়স্বজন যেন রাতারাতি ধনী না হয়, এই সংস্কৃতিও ভাঙতে হবে বলে উল্লেখ করেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, অবৈধভাবে বিদেশে পাচার করা অর্থ সম্মানের সঙ্গে দেশে ফিরিয়ে আনতে আহ্বান জানানো হবে। কাউকে অপমান করার জন্য নয়, এর উদ্দেশ্য জাতির কল্যাণ। যাঁরা অর্থ ফেরত দেবেন, রাষ্ট্র তাঁদের সম্মান দেবে।
তহবিলের নিরাপত্তাহীনতা, সম্পদের সুরক্ষার অভাব এবং রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার ঘাটতিকে শিল্পমালিকদের প্রধান তিনটি সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেন জামায়াত আমির।
অনুষ্ঠানে নারীদের কর্মক্ষেত্র ও কর্মঘণ্টা নিয়েও কথা বলেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, একজন মা গর্ভধারণ করেন, দুই থেকে আড়াই বছর সন্তানকে দুধ পান করান এবং এরপর আবার আট ঘণ্টার কর্মজীবনে যুক্ত হন। এই সময় তাঁর জন্য স্বস্তিকর কর্মপরিবেশ প্রয়োজন।
এ প্রসঙ্গে জামায়াত আমির আরও বলেন, অনেক মা সন্তান রেখে দীর্ঘ সময় বাইরে থাকতে না পেরে চাকরি ছেড়ে দেন। রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো এমন ব্যবস্থা করা, যাতে এসব মা কর্মক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারেন এবং একই সঙ্গে সন্তানের ন্যূনতম অধিকারও নিশ্চিত হয়। এসব ক্ষেত্রে কেউ এক বছর পর কাজে ফিরতে চাইলে তাঁর জন্য যেন কোনো প্রতিবন্ধকতা না থাকে। আবার কেউ দুই বা আড়াই বছর সময় নিলে সেটিও সম্মানের সঙ্গে গ্রহণ করতে হবে।
মতবিনিময় সভায় জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহেরসহ দলটির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
