ঢাকারবিবার , ২৬ অক্টোবর ২০২৫

বিশুদ্ধ রাজনীতি সময়ের দাবি

আব্দুর রহিম
অক্টোবর ২৬, ২০২৫ ১০:৪৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এখনো তফসিল কিংবা তারিখ ঘোষণা করা হয়নি। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ঘোষিত ‘২০২৬ সালের মাঝামাঝি’ নির্বাচনের সময় ধরেই কার্র্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে কয়েকটি রাজনৈতিক দল। বলতে গেলে তারা নির্বাচনে ট্রেনে উঠে বসেছে। এই ট্রেন ধীরে ধীরে চলতেও শুরু করেছে। গতিও বাড়ছে। কিন্তু ট্রেন কোথায় থামবে- এর নিশ্চয়তা নেই। এই অনিশ্চিত যাত্রায়ও সব চেয়ে বেশি ফুরফুরে মেজাজে রয়েছেন বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। নির্বাচন যখনই হোক, তারা জিতবেন- এটা নিশ্চিত ভাবছেন তারা। কেননা, এখন কার্যক্রমে থাকা সব চেয়ে বড় রাজনৈতিক দল বিএনপি। তাদের রয়েছে বিপুল কর্মী বাহিনী। হাইব্রিড নেতাকর্মীর সংখ্যাও নেহাত কম নয়। তা-ই তাদের জয়ের সম্ভাবও খুবই বেশি। এই সম্ভাবনার আরেকটি কারণ হলো আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি।

গণহত্যায় অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ আগামী নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে। ফলে বিএনপির প্রার্থীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্ধিতা করে পরাজিত অন্য দলের প্রার্থীর জন্য অসম্ভব নয়, কষ্টকর। আরেকটি বড় দল জাতীয় পার্টিও ঘাপটি মেরে আছে। তারাও যে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে, তার নিশ্চয়তা নেই। যদিও দলটির নেতা জিএম কাদের বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি ছাড়া নির্বাচন হবে না। হতে দেওয়া হবে না।’ এই হতে দেওয়া হবে ‘না’র মধ্যে বড় রকম জোর আছে। আদতে সেই জোর তাদের আছে কি-না, কিংবা তারা সেটা প্রয়োগ করতে পারবেন কি-না, তা সময়ই বলে দেবে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে সব চেয়ে শক্তিশালী দল বিএনপি এবং নির্বাচন হলে তারাই ক্ষমতায় যাবে বলে প্রায় সব মানুষ বিশ্বাস করে। এই আত্মবিশ্বাসের কারণে ১৭ বছর ধরে জুলুম-নির্যাতনের শিকার নেতাকর্মীরা সোনালী স্বপ্নে বিভোর। সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরই বিকালে বেপরোয়া হয়ে উঠে দলটির বিপুল নেতাকর্মীরা। তারা দখলের মচ্ছবে মেতে উঠে। এতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। বিষয়টি দলটির নীতি-নির্ধারকরাও বুঝতে পারছেন। এ কারণে তারাও হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকেননি। অনেকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও নিয়েছেন তারা। সেই সংখ্যা সাড়ে পাঁচ হাজারের বেশি বলে সংবাদ মাধ্যম বলছে।

‘গত ১১ মাসে চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব ও হামলার নানা অভিযোগে চার হাজারের বেশি নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি। বিশ্লেষকরা মনে করেন ক্ষমতায় যাওয়ার আগেই বিএনপি যেসব বিতর্কে জড়িয়ে পড়ছে, তাতে দলটির ওপর একটা বড় চাপ তৈরি হয়েছে।’ (বিবিসি বাংলা, ১৯ জুলাই ২০২৫)।

এরপরও প্রতিনিয়তই বিএনপির নেতাকর্র্মীদের বিরুদ্ধে দখলবাজি, চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠছে। দল তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও নিচ্ছে। বিষয়টি ভাবিয়ে তুলেছে দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকেও। ‘জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ‘স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা’ নিশ্চিতের লক্ষ্যে নানা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ইতোমধ্যে সাত হাজারের বেশি নেতাকর্মীকে পদচ্যুত বা বহিষ্কার করেছে বলে জানিয়েছেন তারেক রহমান। এক ফেসবুক পোস্টে তিনি এ কথা জানান। (ডেইলি স্টার ১৮ সেপ্টেম্বর।) কিন্তু ধান ভানতে কেন শিবের গীত গাইছি? এই প্রশ্নের উত্তর দিতে চাই একটা ঘটনার মধ্য দিয়ে। রাজবাড়ী-১ (রাজবাড়ী সদর ও গোয়ালন্দ) আসনে বিএনপির মনোনয়ন দৌড়ে মাঠে রয়েছেন সাবেক এমপি আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম এবং কৃষক দলের সহসভাপতি অ্যাডভোকেট আসলাম মিয়া। তাদের ঘিরে সেখানকার রাজনীতি মূলত দুটি বলয়ে বিভক্ত। তাদের অনুসারীরা প্রকাশ্যে বিপরীত বলয়ের নেতার বিরুদ্ধে বিষোদগার করছেন।

তাদের নাম ব্যবহার করে অনেকে অপকর্মও করে যাচ্ছেন। রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ঘাট দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন অনেকে। ২৩ অক্টোবর দৌলতদিয়ায় জনসভা করেন আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। সেখানে আসলামপন্থি নেতাকর্মীদের দেখা যায়নি। তবে খৈয়মপন্থী বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। এটা অবশ্যই ভালো দিক। কিন্তু সেখানে একটা ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটে গেছে। দৌলতদিয়া যৌনপল্লীর যৌনকর্মীদের সেখানে যেতে বাধ্য করা হয়েছে। এর দায়িত্বে ছিলেন বিএনপির কয়েকজন নেতা। এছাড়া জনসভার জন্য চাঁদাবাজির অভিযোগ বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেও একই ধরনের ঘটনা ঘটতো। জনসভার জন্য চাঁদা তোলা হতো। যৌনকর্মীদের জনসভায় যেতে বাধ্য করা হতো। বিএনপির জনসভার ক্ষেত্রেও সে-ই পুরনো অভিযোগ উঠলো। তাহলে পরিবর্তনটা কোথায় হলো- এই প্রশ্নের উত্তর কে দেবেন? লেখক: সাংবাদিক।