
অভিনেত্রী জয়া আহসান মনে করেন বাংলাদেশে তিনি তার সেরা কাজটি ‘এখনো করে উঠতে পারেননি’। ক্যারিয়ারে মোড় ঘুরে যাওয়ার পেছনে ওপার বাংলার সিনেমায় অভিনয় করার সিদ্ধান্তকে কারণ হিসাবে তুলে ধরেছেন জয়া। কদিন আগে একটি টেলিভিশন স্টেশনে পডকাস্ট অনুষ্ঠানে এসে কথা বলছিলেন অভিনেত্রী।
ঢাকা ও কলকাতা মিলিয়ে ৪০টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন জয়া। কলকাতা যাত্রা নিয়ে জয়া বলেন, তখন বাংলাদেশে আমি করতে পারি, সে রকম কাজ পাচ্ছিলাম না। সেই কষ্টের জায়গা থেকে এবং শিল্পের প্রতি আমার প্যাশনের কারণেই কলকাতায় যাওয়া। আমাকে তো কাজ করতে হবে। অভিনয় ছাড়া তো আমি কিছু করিনি বা পারি না।

কলকাতায় সবসময় গুণের কদর হয়। কোনো একটা ভালো কাজ করলাম মানে আমি তাদের লাইমলাইটে চলে আসলাম। তবে সেখানে কাজ করতে হলে প্রযোজকদের বিশ্বাস করাতে হলে নিজের একটা ঠিকানা তৈরি করতে হয়। আমি সেখানে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকি। আমার একটা ঠিকানা তৈরি করে নিয়েছি।

বাংলাদেশের পরিচালকরা সঠিকভাবে জয়াকে ব্যবহার করতে পারেনি বলেও মন্তব্য করেছেন জয়া। দেশে যে পরিচালকদের জন্য আমি সব সময় হাজির ছিলাম, তারা আমাকে কাজে লাগাননি। বাংলাদেশে একটা সমস্যা, পরিচালকের বান্ধবী, নয় স্ত্রী থাকে। এটা তো আমার পক্ষে সম্ভব না, এসবে আমি যাইনি, যাবও না। এসব কারণে আমি কর্নারড হয়েছি, এতটা ডিভোটেড (নিবেদিত) থাকার পরও। যা কলকাতায় হয়নি। আউটসাইডার হওয়ার পরও ওরা ভালো চরিত্র দিয়েছে, আমাকে নিয়ে ভেবেছে, আমাকে কেন্দ্র করে গল্প বানিয়েছে। তাই আমি কেন কলকাতার প্রতি গ্রেটফুল থাকব না? ওরা আমাকে নিয়ে ভেবেছে।
বাংলাদেশের নির্মাতারা এখনো নারীকেন্দ্রিক গল্প বানাতে ‘ভয় পান’ বলে মন্তব্য করেছেন জয়া। তিনি বলেন, এখনো বাংলাদেশে নারীকে কেন্দ্র করে কাজ করতে ভয় পান অনেক পরিচালক। করলেও এমন কাজে হয় তার বান্ধবীকে নেবেন, না হয় স্ত্রীকে নেবেন। অথবা মেগাস্টার, সুপারস্টার কাউকে নেবেন। একজন পিওর আর্টিস্টকে নিয়ে বাজি ধরতে রাজি নন তারা। তবে এর বাইরেও অনেক নির্মাতা কাজ করছেন, তাদের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই বলছি, অনেক ডায়নামিক পরিচালক আছেন, যারা আমার কাছ থেকে বা আরও গুণী অভিনেতাদের থেকে ভালো কাজ বের করতে পারতেন। কিন্তু তারা করেননি।
অভিনেত্রী জয়া আহসান। ছবি: ফেইসবুক থেকে নেওয়া। গেল বছর মুক্তি পাওয়া হিন্দি সিনেমা ‘রকি অউর রানি কি প্রেম কাহানি’ তে অভিনয় করার প্রস্তাব পেয়েছিলেন জয়া। তবে প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন অভিনেত্রী।
এ নিয়ে প্রশ্নে জয়া বলেন, চরিত্রটা অন্য রকম ছিল, পরে আর ওটা হয়নি। করিনি তখন, করা হয়নি। ঠিক আছে। যেটা ভাগ্যে থাকবে, যেটা আমার জন্য পরিকল্পিত থাকবে, সেটা হবেই। প্লাস্টিক সার্জারি, ফিল্ম ফেয়ার পুরস্কার, কলকাতায় কাজের অভিজ্ঞতাসহ নানা বিষয় নিয়েও পডকাস্টে কথা বলেছেন জয়া।
চলতি বছরে জয়ার বেশ কয়েকটি সিনেমা মুক্তি পেয়েছে। বাংলাদেশে মুক্তি পেয়েছে ‘তাণ্ডব’, ‘উৎসব’,‘ফেরেশতে’ এবং ‘জয়া আর শারমিন’। আর কলকাতায় মুক্তি পেয়েছে ‘ডিয়ার মা’ ও ‘পুতুল নাচের ইতিকথা’ সিনেমা।
